রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর চিঠি দিয়েছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামের একটি সংগঠন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব ও আলোচিত নারী উদ্যোক্তা-ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিটি পাঠ করে শোনান। এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল উপস্থিত ছিলেন।
রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং দলটির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন—কোনও নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি বা কোনও সংস্থার প্রধান হতে পারবেন না। তার দাবি, এই অবস্থান দলটির ঘোষিত নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এমন বক্তব্য ও নীতি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮-এর সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদগুলোতে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে কোনও রাজনৈতিক দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য।
রোবাইয়াত ফাতিমা তনি মন্তব্য করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার অস্বীকার করা একটি চরম অসাংবিধানিক আদর্শ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষ সমানাধিকারের কথা বলেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোনও রাজনৈতিক দল যদি নারীর নেতৃত্বের অধিকার অস্বীকার করে, তবে তা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিচার নিশ্চিত করা এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা বৈষম্যমূলক অবস্থানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনগত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, নারীর সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর জনমত গড়ে তুলতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগ ও দাবিগুলো নিয়ে আইনগত ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সরকারের অবস্থানের ওপর।
কসমিক ডেস্ক