ভোলার চরফ্যাশনে সম্প্রতি টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না, যা এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করছে। অজু, গোসল ও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজ স্থবির হয়ে পড়ায় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। পানির সংকট সামাল দিতে চরফ্যাশনবাসীরা এখন সাবমার্সিবল মোটরের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে ব্যয় এবং পরিশ্রম উভয়ই বেশি।
চরফ্যাশন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নলকূপ বা হ্যান্ড টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। তবে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। স্থানীয়দের কথায়, বেসরকারি মালিকানা দুই ইঞ্চি টিউবওয়েলে পানি কিছুটা উঠলেও সরকারি টিউবওয়েলগুলো কার্যত অকেজো হয়ে গেছে।
পৌরসভা এলাকায় বেশিরভাগ টিউবওয়েলে মোটর বসিয়ে পানি তুলার চেষ্টা করা হলেও তাতে সফলতা কম। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পানি ওঠা কমতে শুরু করে এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এই সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এর ফলে স্থানীয়রা পাল্লা দিয়ে সাবমার্সিবল মোটর বসাতে বাধ্য হচ্ছেন। সামর্থ্যবান অনেক গ্রামবাসী বাড়িতে সাবমার্সিবল মোটর বসাচ্ছেন, তবে অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার মহল্লার তাছলিমা বেগম জানিয়েছেন, ‘গত এক মাস ধরে পানি সমস্যা শুরু হয়েছে। যে মোটরে ৩০ মিনিটে ট্যাংক ভরা যেত, সেখানে এখন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগছে।’ অন্যদিকে আসলমপুর গ্রামের মিনারা বেগম বলেন, ‘এক জগ পানি তুলতে কমপক্ষে ১০ মিনিট সময় লাগে। আমরা খুব কষ্টে আছি।’
চরফ্যাশন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, পানির স্তর ২৫ ফুটের বেশি নিচে নেমে গেছে। এজন্য হ্যান্ড টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। তারা বর্তমানে টিউবওয়েল এবং সাবমার্সিবল মোটর বরাদ্দ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন যে, ভূগর্ভস্থ পানির এই হ্রাস দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে বড় ধরণের অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। স্কুল, মন্দির ও মসজিদসহ জনসাধারণের সাধারণ চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে যাবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, টিউবওয়েল সংকট শুধু ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাসের কারণে নয়, বরং সাবমার্সিবল মোটরের সঠিক ব্যবহার, টিউবওয়েল রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয় পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রকট হচ্ছে। তাই ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থাপনা ও সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগে সমস্যা কমানো সম্ভব।
চরফ্যাশনবাসীর মতে, সরকারিভাবে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও টিউবওয়েল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ না হলে এই পানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি, স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি, পানি অপচয় রোধ ও টিউবওয়েলের কার্যকারিতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত, চরফ্যাশনের মানুষদের দৈনন্দিন জীবন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা রক্ষার জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক। বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত সাবমার্সিবল মোটর ছাড়া কোনো কার্যকর সমাধান নেই। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সাধারণ জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে।
কসমিক ডেস্ক