ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল নাটকীয়তা, দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দুটি পেনাল্টি, একটি লাল কার্ড এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পরও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও রক্ষণভাগের আত্মত্যাগী পারফরম্যান্সে জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলতে নেমে মেক্সিকো শুরুতে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। ৩৬তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে আসে প্রথম গোল। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের দ্রুত থ্রো এবং ডেকলান রাইসের দারুণ বিল্ডআপের পর বুকায়ো সাকার বাড়ানো বল হ্যারি কেইনকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় জুড বেলিংহ্যামের কাছে। সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে হেডে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। মাত্র দুই মিনিট পর হ্যারি কেইনের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসনের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিক মেক্সিকো। একটি ফ্রি-কিক থেকে প্রতিহত হওয়া বল জুলিয়ান কুইনোনেসের সামনে চলে এলে তিনি দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। এরপর রাউল হিমেনেস সমতাসূচক গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও জর্ডান পিকফোর্ডের অসাধারণ সেভ ইংল্যান্ডকে স্বস্তি এনে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ডিফেন্ডার জারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় ইউরোপের দলটি। সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পর অনেকেই ম্যাচে মেক্সিকোর প্রত্যাবর্তনের আশা করছিলেন।
কিন্তু ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়। ৬০তম মিনিটে ইংল্যান্ডের আক্রমণে বক্সের ভেতর ফাউল হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নিখুঁত শটে গোল করে দলের লিড ৩-১ করেন তিনি এবং ইংল্যান্ডকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন।
তবে মেক্সিকোও সহজে হার মানেনি। ৬৯তম মিনিটে তারাও একটি পেনাল্টি আদায় করে নেয়। রাউল হিমেনেস স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন। এরপর স্বাগতিকরা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয়।
শেষ ২০ মিনিটে প্রায় পুরো সময়ই নিজেদের অর্ধে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল ইংল্যান্ড। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। একই সঙ্গে ডিফেন্ডারদের আত্মত্যাগী পারফরম্যান্স এবং সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ কৌশল মেক্সিকোর সব আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়।
শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এই জয়ের মাধ্যমে থমাস টুখেলের দল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারল না স্বাগতিক মেক্সিকো। তবে তাদের সাহসী পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কসমিক ডেস্ক