আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বহিষ্কৃত) জিয়াউল আহসানের ঢাকার বাসায় সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের অনুমতি নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটির একটি বিশেষ দল।
দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বাড়ির বিভিন্ন মালামাল ও সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি আদালতের নির্দেশে সম্পত্তি ক্রোক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল ঢাকার একটি আদালত জিয়াউল আহসানের নামে থাকা প্রায় ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এসব সম্পত্তি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত। সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের জমি, কৃষিজমি, বাগানবাড়ি এবং আবাসিক ফ্ল্যাট।
একই আদেশে জিয়াউল আহসানের নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাবের প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এখন তার বাসার মালামাল ও অন্যান্য সম্পদের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করছে দুদক।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইনভেন্টরি প্রক্রিয়ায় বাড়িতে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, অলংকারসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে গত রোববার (১৯ জুলাই) ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটেও একই ধরনের ইনভেন্টরি কার্যক্রম শুরু করে দুদক। প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ওই ফ্ল্যাট দুটিতে প্রথম দিনের অভিযানে তিন শতাধিক কোট, ৫৩২টি টাই, শতাধিক কামিজ, আটটি ওয়াচ বক্স (এর মধ্যে চারটি রোলেক্স), তিনটি মুক্তার সেট, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী তালিকাভুক্ত করা হয়।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোক ও ইনভেন্টরি কার্যক্রম আইনানুগ প্রক্রিয়ার অংশ। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের প্রয়োজনেই এসব সম্পদের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক