বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর কাছাকাছি এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন যাত্রী। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট সংলগ্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তি ইসলাম পরিবহন নামের একটি বাসের চালক বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের বাসটি দোয়ারিকা সেতু পার হয়ে নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাবিবা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই ইসলাম পরিবহনের চালকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই দুই বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে বরিশাল-ঢাকা রুটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাতের এ দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক