হাওরে পানির নিচে ১৪ বিঘা ধান, কৃষকের কান্না The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাওরে পানির নিচে ১৪ বিঘা ধান, কৃষকের কান্না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
হাওরে পানির নিচে ১৪ বিঘা ধান, কৃষকের কান্না ছবির ক্যাপশন:

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বাঁধভাঙা পানিতে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, তলিয়ে গেছে বছরের পর বছরের পরিশ্রমে গড়া স্বপ্ন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন বদলপুর ইউনিয়নের উত্তরহাটীর কৃষক শিবলাল দাস

তিনি জানান, ধার-দেনা করে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে ১৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। ফসলও ভালো হয়েছিল, আশা ছিল অন্তত ২০০ মণ ধান ঘরে তুলবেন। কিন্তু আকস্মিক ঢল ও অতিবৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে এক মুঠো ধানও কাটতে পারেননি তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সব শেষ বাবা! জলের তলে সব হারাইছি।” নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পুরোপুরি ভেঙে গেছে।

সরেজমিনে হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, বদলপুর, সদর ইউনিয়ন, জলসুখা, শিবপাশা ও কাকাইলছেও এলাকার নিচু জমিগুলো এখন পানিতে ডুবে আছে। অনেক কৃষক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে ডুবে থাকা জমি থেকে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু রোদ না থাকায় কাটা ধান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে চারা গজাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে আজমিরীগঞ্জে মোট ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ফসল এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

কৃষক গিরিন্দ্র দাস জানান, তার ১৮ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ৪ বিঘার ধান তুলতে পেরেছেন। অন্যদিকে কৃষক হুমায়ুন মিয়া জানান, ৭৫ বিঘা জমিতে চাষ করলেও প্রায় ৩০ বিঘা এখন পানির নিচে।

শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে না পারায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি খরচে শ্রমিক আনলেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খোয়াই ও সুতাং নদীর পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বাড়ছে, যা নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, হাওরের কৃষকদের জন্য এই সময়টি এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি—সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা দ্রুত পানি কমে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ছেলেমেয়েদের রক্তের বিনিময়ে হঠাৎ নেতা হয়েছে ওরা: মির্জা আব্বা

ছেলেমেয়েদের রক্তের বিনিময়ে হঠাৎ নেতা হয়েছে ওরা: মির্জা আব্বা