জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দেশের গণপরিবহন খাতে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আজ থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে।
Bangladesh Road Transport Authority শনিবার (২৫ এপ্রিল) নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন রুটের বাসভাড়াও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার (২৬ এপ্রিল) থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হচ্ছে। প্রতিটি বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে টাঙানো থাকবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই ভাড়ার তথ্য জানতে পারেন।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-গাবতলী রুট থেকে দেশের বিভিন্ন উত্তরাঞ্চলীয় জেলায় ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গাবতলী থেকে পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া প্রতি আসনে এক হাজার ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই রুটে ৪০ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ২৮১ টাকা।
গাবতলী থেকে রংপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৫১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর রুটে এই ভাড়া যথাক্রমে ৯৭৪ ও ১ হাজার ২৪১ টাকা। রাজশাহী রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৯১ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ রুটেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। মেহেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৬ টাকা এবং ঝিনাইদহ রুটে ৫০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সায়েদাবাদ থেকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রুটগুলোতেও ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭০৪ টাকা, কক্সবাজার রুটে ৯০০ টাকা এবং সিলেট রুটে ৫৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরিশাল, খুলনা ও টেকনাফ রুটেও ভাড়ার নতুন তালিকা কার্যকর হয়েছে। টেকনাফ রুটে সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭ টাকা (৫১ আসনের বাসে)।
মহাখালী থেকে উত্তরাঞ্চলের রুটগুলোতেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ রুটে যাত্রীদের এখন আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হবে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় উন্নীত হওয়ায় পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে বাস ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না।
এদিকে যাত্রীদের অনেকেই নতুন ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আয় না বাড়লেও পরিবহন খরচ বারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি মূল্য এবং পরিবহন ভাড়ার মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর।
সব মিলিয়ে, নতুন বাসভাড়া কার্যকর হওয়ায় দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
কসমিক ডেস্ক