লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। থেমে থেমে চলা বৃষ্টির কারণে পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।
মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই টানা বৃষ্টির ফলে বাগেরহাট শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং বাজার এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বাগেরহাট পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, শহরের কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই নোংরা পানির মধ্য দিয়ে বাজার করতে যাচ্ছেন। পৌরসভা ভবনের সামনের সড়কও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইজিবাইক চালকরা জানান, বৃষ্টি হলেই শহরের প্রধান সড়কগুলো জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে যানবাহনের ইঞ্জিন ও মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত মেরামতের কারণে তাদের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে জেলার কৃষি খাতেও। বিশেষ করে বোরো ধান এবং মৌসুমি সবজি চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জমিতে পানি জমে থাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অধিকাংশ বোরো চাষি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। একইভাবে মৌসুমি সবজি চাষিরাও ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মোংলা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। তবে বন্দরের কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দরে বর্তমানে কয়লা, সারসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী সাতটি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে এবং নিয়মিতভাবে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে।
মোংলা বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে সব কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতে জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে বর্তমানে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে টানা বৃষ্টির কারণে বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি বেড়েছে। শহরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক ও পরিবহন শ্রমিক—সবাই এই পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কসমিক ডেস্ক