রাজধানী ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। শীত মৌসুম শেষ হয়ে তাপমাত্রা বাড়লেও বৃষ্টির অভাব এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শহরটিতে বায়ুদূষণের মাত্রা এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। যদিও গত দুই দিনের তুলনায় দূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক (AQI) অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল নবম। এ সময় শহরটির বায়ুমান সূচক ছিল ১৬১, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে সেই বায়ুকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আইকিউএয়ারের তালিকায় এদিন শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর শহর। শহরটির বায়ুমান সূচক ছিল ২৮২, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। একই দেশের আরেকটি বড় শহর করাচির অবস্থান ছিল অষ্টম, যেখানে বায়ুমান সূচক ছিল ১৬৩।
ভারতের রাজধানী দিল্লি ২৪১ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই স্কোরও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ স্তরের মধ্যে পড়ে। ভারতের আরেকটি বড় শহর কলকাতা রয়েছে সপ্তম স্থানে, যেখানে বায়ুমান সূচক ছিল ১৭১।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। শহরটির বায়ুমান সূচক ছিল ১৮৯। চতুর্থ স্থানে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, যেখানে এ কিউআই স্কোর ১৭৯।
এছাড়া সেনেগালের রাজধানী ডাকার ১৭৪ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে, যেখানে বায়ুমান সূচক ছিল ১৭১।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত মৌসুমে সাধারণত বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকে। তবে মৌসুম পরিবর্তনের সময় বৃষ্টিপাত না হলে এবং বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে দূষণ দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে ঢাকায় এমন পরিস্থিতিই বিরাজ করছে।
ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হয় নির্মাণকাজের ধুলো, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটার দূষণ এবং শিল্পকারখানার নির্গত ধোঁয়া। এছাড়া শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বাতাসে ধুলোর পরিমাণ বাড়ে, যা দূষণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করে।
বায়ুমান সূচক বা AQI একটি নির্দিষ্ট স্কোরের মাধ্যমে বাতাসের গুণগত মান নির্দেশ করে। সাধারণত ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।
এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়, যেখানে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ইটভাটার আধুনিকীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক