ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় “দারুণ অগ্রগতি” হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি বড় ধরনের চুক্তি হতে পারে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, কয়েক মিনিট আগে তিনি ইরান ইস্যুতে “খুব ভালো খবর” পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।
ট্রাম্প জানান, যদি বুধবারের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হবে না এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এমনকি প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে আবারও বোমা হামলা শুরু হতে পারে।”
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই ইরান ইস্যু নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি–কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, আসন্ন চীন সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকটি “বিশেষ এবং ঐতিহাসিক” হতে পারে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থান দেখা গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক জাহাজ কোনোভাবেই এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। সেই আইনে “নিরাপত্তা ফি” নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজগুলো নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
ইরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা নৌ অবরোধ চলতে থাকলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে বুধবারের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দিকে।
কসমিক ডেস্ক