এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন: দরপতনের প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধনে বড় ধস

গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এর ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে ৩২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে এবং ৮টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, তার তুলনায় প্রায় পাঁচ দশমিক পাঁচ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।

এই বড় দরপতনের কারণে ডিএসইর বাজার মূলধন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা।

আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা প্রায় ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

এর আগের সপ্তাহে এই সূচকটি ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা প্রায় ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছিল।

অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেও একই ধরনের পতন হয়েছে।

বাছাই করা ভালো কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই–৩০ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ১৫৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা প্রায় ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

এর আগের সপ্তাহে এই সূচকটি ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছিল।

ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

গত সপ্তাহে এই সূচক কমেছে ৬৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা প্রায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে আগের সপ্তাহে সূচকটি ২১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছিল।

শুধু সূচক নয়, গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি কমার প্রবণতাও দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা প্রায় ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এটি মোট লেনদেনের প্রায় ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।

তারা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাজারে ইতিবাচক নীতি সহায়তা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
শক্তিশালী টর্নেডোতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিধ্বস্ত

শক্তিশালী টর্নেডোতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিধ্বস্ত