পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাসুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাজুল ইসলাম তাজ (১৬) ওই ইউনিয়নের ফারুক হাওলাদারের ছেলে। তিনি পাটুয়া আল-আমিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, মাসুয়াখালী গ্রামের কামাল মৃধার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাজুল ইসলাম তাজ। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে কয়েকজন কিশোর তাকে বাড়ির পাশের একটি বিলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
তাজুলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, তাজুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে তলপেটে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, হামলার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহভাজন তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটকরা হলেন রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮)।
স্থানীয়দের দাবি, আটক কিশোররা এলাকায় বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসএসসি পরীক্ষার হলে খাতা দেখাদেখি নিয়ে পূর্বের বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিহত তাজুল ইসলাম চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আরও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের হাতে আটক তিন কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো হত্যার দায় স্বীকার করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ ধরনের কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট সহিংসতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছে, তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা রোধে সামাজিক উদ্যোগ ও প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।
কসমিক ডেস্ক