রাজধানী ঢাকার প্রাণ হিসেবে পরিচিত বুড়িগঙ্গা নদী দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণের কারণে এখন চরম অস্তিত্বসংকটে। হাজারো শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা এবং অব্যাহত দখলের ফলে নদীর পানি কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত ও জলজ প্রাণীবিহীন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর সীমানাপিলারের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি, দোকান, পার্ক, ডকইয়ার্ড, বালুর গদি ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও নদী ভরাট করে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও ইট-বালু ও বর্জ্য ফেলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
সাত বছর আগে বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত করতে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৭ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল এবং দাবি করা হয়েছিল যে নদীর ৯৫ শতাংশের বেশি অংশ দখলমুক্ত হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি। উচ্ছেদের পর উদ্ধার হওয়া অনেক এলাকাই আবার দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী ভরাট করা জমি পুনরায় খনন করে নদীতে ফিরিয়ে আনার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সেই জমিগুলো পুনরায় দখল ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঢাকা অংশে কামরাঙ্গীর চর থেকে বসিলা এবং তুরাগ নদীর সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে দখল, ইটভাটা, বালুর গদি ও বিভিন্ন স্থাপনার বিস্তার দেখা গেছে। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জ অংশে নদীর ভেতর ভরাট করে পার্ক, রেস্তোরাঁ, ওয়ার্কশপ, মাছ চাষের ঘের এবং জাহাজ নির্মাণকেন্দ্র গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত ভরাট, শিল্পবর্জ্য এবং দুর্বল নজরদারির কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে বর্তমান সরকার বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। পরিবেশবিদদের আশা, এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নদী পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক