অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এসব অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক Asif Nazrul।
তার বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অন্যান্য অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপদেষ্টা পদে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জামিন করিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এমনকি দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ নজরুল। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা অবস্থায় বা তার আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করেননি। তিনি লিখেছেন, নতুন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেননি, তার কোনো নতুন সম্পদ হয়নি এবং আয়কর দেওয়ার সময় কোনো সম্পদ গোপন করেননি।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেননি। দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ানোর ইচ্ছা তার নেই; তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, এসব অপবাদে তার কোনো ক্ষতি হবে না।
এদিকে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের স্থানে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকি প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরেকটি আলোচিত অভিযোগ মামলা ও জামিন বাণিজ্য ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জামিন আদায়ে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ নজরুল তার পোস্টে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ না করে সামগ্রিকভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি নৈতিক দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। সমালোচকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে। এক ভিডিও বক্তব্যে সাংবাদিক মাসুদ কামাল দাবি করেন, একটি আলোচিত মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পেছনে আসিফ নজরুলের ভূমিকা ছিল বলে তার সন্দেহ নেই। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
আরেক আলোচনায় সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহবুব আজীজ মন্তব্য করেন, নৈতিক দুর্নীতিও বড় ধরনের দুর্নীতি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রে। বিভিন্ন মহল সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা।
কসমিক ডেস্ক