নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে তারাবো পৌরসভার খাদুন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্র ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা যায়, খাদুন এলাকায় অবস্থিত ভুইয়া ফেব্রিকস নামে একটি পোশাক কারখানায় প্রায় ৪০০ শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ঈদ উপলক্ষে ঘোষিত বোনাস দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ‘দিচ্ছি দিচ্ছি’ বলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেন।
বুধবার সকালে শ্রমিকরা যথারীতি কারখানায় এসে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের বিষয়ে জানতে চান। তখন মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে বেতন ও বোনাস আগামী ১৮ মার্চ পরিশোধ করা হবে।
এই ঘোষণায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে পড়ে। ফলে যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের বিষয়ে নতুন করে আশ্বাস দেয়। জানানো হয়, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে।
মালিকপক্ষের এই আশ্বাস এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
অবরোধ তুলে নেওয়ার পর শ্রমিকরা আবার কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ আগামীকাল শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং পুনরায় কাজে যোগ দেন।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো গেছে।
কসমিক ডেস্ক