সবার আগে ঈদের তারিখ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সবার আগে ঈদের তারিখ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 14, 2026 ইং
সবার আগে ঈদের তারিখ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া ছবির ক্যাপশন:

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ সবার আগে ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির শীর্ষ ইসলামি সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, দিনটি হবে ১৪৪৭ হিজরি সালের ১ শাওয়াল।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং চাঁদ দেখার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন হিসেবে পালিত হবে। এরপরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটির মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল জানিয়েছে, চাঁদ দেখার বিষয়টি নির্ধারণে শুধু অস্ট্রেলিয়ার আকাশে চাঁদ দেখার সম্ভাবনাই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে চাঁদ দেখার সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কাউন্সিলের মতে, রমজান মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণ, শাওয়াল মাসের সূচনা এবং ঈদুল ফিতরের দিন ঠিক করতে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। এসব মানদণ্ড নির্ধারণে অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল যৌথভাবে কাজ করে থাকে।

চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সূর্যাস্তের আগে নতুন চাঁদের আবির্ভাব ঘটেছে কি না, সূর্যাস্তের পর আকাশে চাঁদ কতক্ষণ দৃশ্যমান থাকতে পারে এবং অস্ট্রেলিয়া বা আশপাশের অঞ্চলে চাঁদ দেখা সম্ভব কি না—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়।

এই তথ্যগুলো বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় যাচাই করা হয়। এরপর এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল বলছে, চাঁদ দেখার বিষয়ে তারা একটি সুসংগঠিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ধর্মীয় বিধান মেনে চলার পাশাপাশি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব হয়।

কাউন্সিলের মতে, এই পদ্ধতি শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ফিকহভিত্তিক সংগঠনও অনুসরণ করে থাকে। ফলে চাঁদ দেখা ও ইসলামি মাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় প্রতি বছর এই পদ্ধতির ভিত্তিতেই রমজান মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণ করে থাকে। এর ফলে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়।

ঈদুল ফিতর মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি মুসলিমদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের দিন মুসলিমরা বিশেষ নামাজ আদায় করেন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঈদুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে ঈদের নামাজ, কমিউনিটি সমাবেশ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই ঘোষণার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত মুসলিমরা আগামভাবে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেলেন। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রমজানে সময়ের সঠিক ব্যবহার কেন জরুরি

রমজানে সময়ের সঠিক ব্যবহার কেন জরুরি