ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে তিন দিনে মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান রুটের বিমান চলাচলে।
২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে উক্ত দেশগুলো সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে যাত্রী ও এয়ারলাইন্স উভয় পক্ষই বিপাকে পড়েন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, এই সংকটের কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট এবং ২ মার্চ রবিবার আরও ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে তিন দিনের মধ্যে মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৮টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট।
বেবিচক জানায়, বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ এবং দুবাই রুটের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্য সব আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে ফ্লাইট পুনরায় সচল হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলেন, কিন্তু বাতিল হওয়ার কারণে তারা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।
বেবিচক এবং বিমান সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং ক্ষতি কমাতে বিমান সংস্থাগুলো সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিবর্তন এবং রিফান্ড প্রদান করছে। ইউএস-বাংলা, বিমান বাংলাদেশ, কাতার এয়ারওয়েজ ও এমিরেটস এয়ারলাইন্স সহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইট এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ধরনের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলে। যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট বাতিলের খবর আগাম সরবরাহ ও সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়ায় বিপর্যয় কমানো সম্ভব। তবে যাত্রীরা যে ভ্রমণসূচি রেখেছেন, তার ওপর তেমন প্রভাব পড়ছে।
বেবিচক আরও জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য আকাশপথে সাময়িক বিধিনিষেধ অবলম্বন করা হয়েছে। এদিকে বিমান সংস্থাগুলোও যাত্রীদের ক্ষতি কমানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিমানবন্দরে আগত যাত্রীরা জানাচ্ছেন, তারা ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে নিজেদের যাত্রা পরিবর্তন করছেন। অনেকেই অন্য এয়ারলাইন বা বিভিন্ন তারিখে ফ্লাইট বুক করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া কিছু যাত্রী বিমানবন্দরে অবস্থান করে বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছেন।
উল্লেখ্য, এই তিন দিনে বাতিল হওয়া ১০২ ফ্লাইটের মধ্যে অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য রুটে হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকরা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। বিমান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি নয়। যেহেতু অন্যান্য রুটে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে, তাই আশা করা হচ্ছে শিগগিরই পুরো ফ্লাইট সিস্টেম স্বাভাবিক হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্য রুটের যাত্রীরা এখনও কিছুদিনের জন্য সীমিত সুবিধার মধ্যে তাদের ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারবেন।
কসমিক ডেস্ক