যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়ানো গাজায় ঝড়ের তাণ্ডব, নিহত ৫ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়ানো গাজায় ঝড়ের তাণ্ডব, নিহত ৫

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়ানো গাজায় ঝড়ের তাণ্ডব, নিহত ৫ ছবির ক্যাপশন:
ad728

শীতকালীন ঝড়ের তাণ্ডবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও দেয়াল ধসে মঙ্গলবার (তারিখ অনুযায়ী) তিন নারীসহ অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে শীতজনিত কারণে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই নারী, এক কিশোরী ও এক পুরুষ রয়েছেন। পাশাপাশি ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এক বছরের একটি শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। এর আগের রাতেই একই কারণে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে গাজায় বসবাসের পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি হয়েছে। যদিও গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শীতকালীন ঝড় মোকাবিলার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ঝড়ের কারণে শত শত তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয় উড়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ নতুন করে খোলা আকাশের নিচে পড়ে গেছে।

আল-শিফা হাসপাতালের তথ্যমতে, গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় একটি আট মিটার উঁচু দেয়াল ধসে একটি তাঁবুর ওপর পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—৭২ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামুদা, তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি ও পুত্রবধূ। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজা সিটির পশ্চিম অংশে দেয়াল ধসে আরও এক নারী নিহত হয়েছেন।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, যুদ্ধের ফলে অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ বাসস্থান হারিয়েছে। “ঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় তাঁবু ও আশ্রয়সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে গাজায় ঢুকতে পারছে না,”—বলেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল, শীতবস্ত্র ও জরুরি সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে মানবিক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি থাকলেও আশ্রয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ গাজায় প্রবেশে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

এদিকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সিভিল ডিফেন্স জানায়, শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে শত শত ফোনকল এসেছে। পশ্চিম গাজা সিটিতে প্রবল বাতাসে অনেক তাঁবু পুরোপুরি উড়ে গেছে।

গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া বলেন, উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ জানান, অস্থায়ী আশ্রয় ও ওষুধের তীব্র সংকটে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় শীতল ও ঝড়ো আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত তিন মাসে গাজায় শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানান, বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, ট্যাংক শেলিং ও গুলিতে এসব শিশু প্রাণ হারিয়েছে। চলতি শীতে এখন পর্যন্ত হাইপোথার্মিয়ায় অন্তত ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনের আগে সাত জেলায় আওয়ামী লীগের সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা

নির্বাচনের আগে সাত জেলায় আওয়ামী লীগের সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা