বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক সেচ প্রযুক্তি সেন্ট্রাল পিভট ইরিগেশন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। অস্ট্রিয়ার আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের মুলাডুলি ইক্ষু খামারে।
বিএডিসি সূত্র জানায়, বিশ্বের উন্নত কৃষি ব্যবস্থায় বহুল ব্যবহৃত সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তির মাধ্যমে এবার বাংলাদেশেও আধুনিক ও সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থার সূচনা হলো। এ পদ্ধতিতে জমির নিচ থেকে নয়, বরং পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে ওপর থেকে ফসলে পানি ছিটানো হয়। এতে কম পানি, কম সময় এবং কম শ্রমিক দিয়ে বড় পরিসরের জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়।
কৃষিবিদদের মতে, মুলাডুলি ইক্ষু খামারে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি সফল হলে সরকারি খামারের পাশাপাশি বেসরকারি কৃষি উদ্যোগেও এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন, চাষের সময় হ্রাস এবং পানির অপচয় কমানো সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বৃদ্ধিতেও এটি ভূমিকা রাখবে।
মুলাডুলি ইক্ষু খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খামারটির মোট আয়তন ১ হাজার ১০১ একর। এর মধ্যে প্রায় ৯৪০ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। সেন্ট্রাল পিভট ইরিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিনশ মিটার ব্যাসার্ধজুড়ে আনুমানিক ১৫০ একর জমিতে একসঙ্গে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি বিশেষজ্ঞ হিসেবে চীনের মিস্টার জ্যাক এবং ভিয়েতনামের মিস্টার খোয়া কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিতে পানি ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তি সেচ ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয়, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূইয়া বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি তাদের খামারে চালু হওয়া শুধু মিলের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষির জন্য বড় অর্জন। তিনি জানান, আগে যেখানে সেচ দিতে দুই দিন সময় লাগত, সেখানে সেন্ট্রাল পিভট ব্যবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ করা যাবে। এর ফলে সময়, শ্রম ও পানি—তিন ক্ষেত্রেই সাশ্রয় হবে এবং একই জমিতে একাধিক মৌসুমি ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হবে।