সারজিস আলমের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা, ব্যবসাকেই পেশা উল্লেখ হলফনামায় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সারজিস আলমের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা, ব্যবসাকেই পেশা উল্লেখ হলফনামায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
সারজিস আলমের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা, ব্যবসাকেই পেশা উল্লেখ হলফনামায় ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ (সদর–তেঁতুলিয়া–আটোয়ারী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. সারজিস আলম তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বার্ষিক আয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সারজিস আলম হলফনামায় তাঁর পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। জন্ম ১৯৯৮ সালে, বয়স ২৭ বছর। তিনি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বামন কুমার এলাকার বাসিন্দা। গাজীপুরের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তবে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের নামে কোনো মামলা নেই।

পেশায় আইনজীবী নওশাদ জমির এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে। তাঁর স্ত্রীও একজন আইনজীবী এবং যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র সলিসিটর হিসেবে কর্মরত।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলম ব্যবসা থেকে বছরে ৯ লাখ টাকা আয় করেন এবং অন্য কোনো খাত থেকে তাঁর আয় নেই। ২০২৫–২৬ কর বর্ষে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। আয়কর রিটার্নে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর কোনো ঋণ নেই। পেশায় গৃহিণী তাঁর স্ত্রীর সম্পদের কোনো তথ্য তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি।

অস্থাবর সম্পদের বিবরণে সারজিস আলম নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা এক লাখ টাকার তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় রয়েছে ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র। তিনি কোনো স্বর্ণালংকারের মালিক নন। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি দানের মাধ্যমে পাওয়া সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার অর্জনকালীন মূল্য ছিল সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং বর্তমানে আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা। হিসাব অনুযায়ী স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা। তবে আয়কর সংক্রান্ত ছকে তিনি রিটার্নে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকার সম্পদ দেখানোর কথা উল্লেখ করেছেন, যা নিয়ে তথ্যগত পার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের আইন পেশা থেকে বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। এ আয়ের বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ টাকা। স্ত্রীর নিজস্ব আয়ের তথ্য না দিলেও আয়কর নথিতে স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।

নওশাদ জমিরের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ২৭৭ টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১৫ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং বৈবাহিক উপহার হিসেবে পাওয়া ২১ ভরি স্বর্ণালংকার। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নওশাদের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা অকৃষিজমি রয়েছে। অপরদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট এবং উত্তরায় প্রায় সাত কাঠা জমিতে বাড়ির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পঞ্চগড় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানিয়েছেন, পঞ্চগড়-১ আসনে আটজন এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে পঞ্চগড়-১ আসনে একজন এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা: আসিফ ম

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা: আসিফ ম