কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে উত্তরবঙ্গ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে উত্তরবঙ্গ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 23, 2026 ইং
কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে উত্তরবঙ্গ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। অথচ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির একটি বড় অংশের যোগান আসে উত্তরবঙ্গ থেকেই। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলকে অবহেলার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পঞ্চগড় জেলা চিনিকল মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য উত্তরবঙ্গে আর কোনো বেকারত্ব না রাখা। প্রত্যেক নাগরিককে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে গোটা অঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, এতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অন্যান্য শিল্প স্থাপনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাদের কাছে কোনো বিশেষ পরিচয় বা ‘কার্ড’ নেই। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষই তাদের শক্তি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে একটি বেকারত্ব ও দায়মুক্ত বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, জনগণের করের টাকায় কেউ দয়া দেখাবে—এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা তারা চান না। বরং যুব সমাজের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।

উন্নয়ন ভারসাম্য নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এতদিন ‘টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া’ স্লোগান শোনা গেলেও বাস্তবে উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষা হয়নি। এবার ‘তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ’—এই দর্শনে দেশ পরিচালনার কথা বলেন তিনি।

উত্তরবঙ্গের নদ-নদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার মতো বড় নদী থাকা সত্ত্বেও অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় এসব নদী আজ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। নদীগুলো সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও অর্থনীতি বহুগুণে এগিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে। পঞ্চগড়েও একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অর্থনৈতিক বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ অর্থ পাচার করতে না পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় যেকোনো ধরনের ভোট কারচুপির চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক লড়াই চলবে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে দশ দলীয় সমন্বয়ের পক্ষ থেকে পঞ্চগড়-১ ও পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অফিসে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনা

নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অফিসে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনা