জামায়াতের বিদেশ বিভাগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা সামিটে অংশ নিতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মালদ্বীপ, ব্রুনাই ও শ্রীলঙ্কাসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত হয়েছেন।
সামিটের শুরুতে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল টিকে থাকা নয়; বরং একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এই সামিটে নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস—যার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জনগণ—বিশেষ করে তরুণরা—নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও সোচ্চার হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি অন্ধকার অধ্যায় অতিক্রম করে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই পথে অগ্রসর হতে হলে এখনও বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পলিসি সামিটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সামনে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে।