বেগম খালেদা জিয়া: আপসহীন নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বেগম খালেদা জিয়া: আপসহীন নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
বেগম খালেদা জিয়া: আপসহীন নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একটি অনিবার্য ও প্রভাবশালী নাম। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের সরকারপ্রধান এবং সামরিক ও কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব। ক্ষমতা ও বিরোধিতা—উভয় অবস্থানেই তিনি দীর্ঘ সময় সক্রিয় থেকেছেন, যা তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। পিতা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। তাঁর প্রাথমিক জীবন ছিল সম্পূর্ণরূপে রাজনীতির বাইরে। ১৯৬০ সালে তিনি সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ সময় তিনি একজন গৃহিণী হিসেবেই জীবনযাপন করেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে ছিলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পরিবারসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নজরবন্দি ছিলেন, অন্যদিকে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এই সময় থেকেই রাষ্ট্র ও রাজনীতির বাস্তবতা তাঁর জীবনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান মুখে পরিণত হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁকে একাধিকবার গৃহবন্দি ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়। তবে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যার মাধ্যমে সামরিক শাসনের পতন ঘটে।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, যা বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়। তাঁর অসুস্থতা সত্ত্বেও কারাবাস মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা সৃষ্টি করে।

বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য পরিচিত। সমর্থকদের কাছে তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক, সমালোচকদের কাছে বিতর্কিত হলেও তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় তাঁর অনুপস্থিতি কেবল বিএনপির নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রাতের আঁধারে সীমান্ত পাড়ি, হাদির ওপর হামলার অভিযুক্তদের ভারত

রাতের আঁধারে সীমান্ত পাড়ি, হাদির ওপর হামলার অভিযুক্তদের ভারত