মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র, বিপাকে বিএনপির জোট রাজনীতি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র, বিপাকে বিএনপির জোট রাজনীতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র, বিপাকে বিএনপির জোট রাজনীতি ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে শরিকদের জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এসব আসনের মধ্যে সাতটিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই আসনগুলোর অন্তত পাঁচটিতে ধানের শীষ না পাওয়া বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় জোটের বিজয় নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শরিক দলগুলোর অভিযোগ, বিএনপির এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে থাকলে ভোট বিভক্ত হবে এবং ধানের শীষের জয় বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে তারা চান, জোটের আসনগুলোতে বিএনপির নেতারা কোনো ব্যানারেই যেন প্রার্থী হিসেবে না থাকেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিকে জানানো হয়েছে।

বিদ্রোহী ঠেকাতে বিএনপির উদ্যোগ

বিএনপি সূত্র জানায়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের নির্বাচন থেকে সরাতে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক—দুই পথেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করে দলটি বিষয়টির মীমাংসা চায়। এ সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা নির্বাচনে আছেন, তাদের প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, সময় শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে দল আশাবাদী।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। আবার অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বড় দলে প্রত্যাশা বেশি থাকায় মনোনয়ন না পেলে ক্ষোভ তৈরি হয়, সেখান থেকেই বিদ্রোহ।

জোটের হিসাব ও কৌশল

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ১২টি দলের ১৭ জন শীর্ষ নেতা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছয়টি দল নিজেদের প্রতীকে এবং সাতটি দলের শীর্ষ নেতা ধানের শীষে ভোট করছেন। সংশোধিত আরপিওর কারণে কেউ কেউ দল বিলুপ্ত করে বা ব্যক্তিগতভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ নিয়েছেন।

ধানের শীষে ভোট করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—লক্ষ্মীপুর-১ থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ থেকে সৈয়দ এহসানুল হুদা, কুমিল্লা-৭ থেকে ড. রেদোয়ান আহমদ, ঝিনাইদহ-৪ থেকে রাশেদ খান, হবিগঞ্জ-১ থেকে রেজা কিবরিয়া, ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ এবং নড়াইল-২ থেকে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

তবে এসব আসনের মধ্যে কেবল লক্ষ্মীপুর-১ ও ঢাকা-১৩ আসনে বিদ্রোহী না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ। বাকি পাঁচ আসনেই বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন।

মাঠের বাস্তবতা

ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলছেন, দলের সিদ্ধান্ত মানাই প্রকৃত বিএনপির পরিচয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দাবি করছেন, এলাকার জনপ্রিয়তা ও তৃণমূলের সমর্থন তার পক্ষে।

নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, বিএনপি হাইকমান্ড বিদ্রোহী প্রার্থী সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভোটের শক্তির কারণেই তিনি নির্বাচনে থাকতে চান।

শরিকদের উদ্বেগ

শরিক দলগুলোর মতে, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। সেই দলের নেতারা যদি জোটের আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকেন, তাহলে শুধু ফল বিপর্যয়ই নয়—জোটের ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইতোমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ১০ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। জানা গেছে, মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে যারা এখনো স্বতন্ত্র হিসেবে আছেন, তারা সরে না দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইউটিলিটি সংযোগ বন্ধে রাজউক-ওয়াসাকে নিষেধ করল আদালত

ইউটিলিটি সংযোগ বন্ধে রাজউক-ওয়াসাকে নিষেধ করল আদালত