ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও একাধিক জেলা ও উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে এসব ঘটনা ঘটেছে।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কাছাকাছি অবস্থিত দুটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সময় ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়, এতে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে পুনরায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক বিরাজ করে।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বান্দরবান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে কিছু স্থাপনায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। রাজশাহীতে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে, আর বান্দরবানে একটি বাসভবনে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হবিগঞ্জেও ব্লকেড কর্মসূচি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এসব ঘটনায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসাবাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে গুজবে কান না দিতে, শান্তি বজায় রাখতে এবং সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে সংলাপ জরুরি। দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কসমিক ডেস্ক