বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতি বছর শীত মৌসুমে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি কমে যায়। কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে শিশু ও বৃদ্ধরা। এ সময় সামান্য অবহেলাও সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা শীতজনিত জটিল রোগের কারণ হতে পারে। তাই শীত মৌসুমে এই দুই বয়সী মানুষের জন্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
শিশুদের ক্ষেত্রে করণীয়
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় শীতে তারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত উষ্ণ পোশাক। একাধিক স্তরের কাপড় পরানো ভালো, যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শরীরে না লাগে। মাথা, কান, হাত ও পা ঢেকে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব অংশ দিয়েই শরীরের তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়।
শীতের ভোর ও রাতে কুয়াশা বেশি থাকে। এই সময় শিশুদের বাইরে নেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে শিশুর খাবারে পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মায়ের দুধ, গরম খিচুড়ি, ডাল, স্যুপ ও মৌসুমি শাকসবজি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
শীতে সর্দি-কাশির সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। তাই শিশুর হাত-পা পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ানো অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে করণীয়
বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে শীত আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা হৃদরোগ রয়েছে। শীতে শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। উষ্ণ চাদর, সোয়েটার, মোজা ও কানঢাকা টুপি ব্যবহার করা উচিত।
ঠান্ডা মেঝেতে সরাসরি বসা বা হাঁটা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে পাটি বা কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবারের ক্ষেত্রে গরম ও সহজপাচ্য খাবার যেমন স্যুপ, ভাত, ডাল ও গরম পানি শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
বৃদ্ধদের নিয়মিত ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেক সময় শীতে অসতর্কতায় ওষুধ অনিয়মিত হয়ে যায়, যা বিপজ্জনক হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু সময় সকালের নরম রোদে বসা এবং হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে।
খুব সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যেনো শীতকালে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সময়মতো সচেতনতা ও যত্নই পারে শিশু ও বৃদ্ধদের শীতকাল নিরাপদ ও সুস্থ করে তুলতে।
কসমিক ডেস্ক