সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে উপস্থিত হন। রাষ্ট্রীয় শোকের পরিবেশে আয়োজিত তার জানাজা ও শেষ যাত্রায় অংশ নিয়ে তারা নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে মরহুম নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন। তিনি ভারতের পক্ষ থেকে শোকবার্তা পৌঁছে দেন এবং মরহুম নেত্রীর রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেশটির জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাবিক ঢাকায় এসে জানাজায় অংশ নেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এর আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্পিকার আয়াজ সাবিক প্রতিনিধিত্ব করেন।
এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি.এন. ধুঙ্গেল বাংলাদেশে এসে খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় অংশ নেন। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির উচ্চ শিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদও ঢাকায় উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা বাংলাদেশ সফরে এসে জানাজায় অংশ নেন এবং নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথও ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে অংশ নেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া, কাতারসহ আরও কয়েকটি দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসে শেষ যাত্রায় অংশ নেন। চীন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরাও নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। জানাজা উপলক্ষে এক দিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।
খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
কসমিক ডেস্ক