আওয়ামী লীগের ভোট কার ঝুলিতে যাবে—নীরব প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আওয়ামী লীগের ভোট কার ঝুলিতে যাবে—নীরব প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
আওয়ামী লীগের ভোট কার ঝুলিতে যাবে—নীরব প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো ছবির ক্যাপশন:
ad728

গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। প্রকাশ্যে প্রায় সব রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও বাস্তবে দলটির বিপুল সমর্থক ভোটকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে আসনভিত্তিক এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের মূল্যায়ন—নিজেদের ঘাঁটির বাইরের আওয়ামী লীগ–সমর্থক ভোটারদের টানতে পারলে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। এ কারণেই কোথাও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভেড়ানো, কোথাও মামলা থেকে রক্ষার আশ্বাস কিংবা সামাজিক সমঝোতার বার্তা দিয়ে ভোট আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’—এমন প্রচার চালানো হলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দলটির নীরব সমর্থকদের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি তারা আদর্শগতভাবে কাছাকাছি কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কাউকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন।

বাংলাদেশে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৩০.০৮, ৩৭.৪৪, ৪০.১৩ ও ৪৮.০৪ শতাংশ। তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় দলটির প্রতি জনমনে ক্ষোভ জমেছে। এর সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিচার—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন কতটা আছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, আদর্শগত নিকটতা। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীর সঙ্গে ভোটারদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক। তৃতীয়ত, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ–সমর্থকদের সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণ। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বার্তা বা নির্দেশনা এলে সেটিও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার পরিবর্তন ঘটেছে। তাঁর ভাষায়, দেশপ্রেমিক ভোটাররা স্বাধীনতার ঘোষকের দল বিএনপির দিকে ঝুঁকবেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে সামাজিক সমঝোতা অনেকটাই হয়ে গেছে, শহরে ধীরে ধীরে সেটিও হবে।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা অভিযোগ করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট টানতে গিয়ে কিছু দল মামলা তুলে নেওয়ার মতো বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা জুলাই গণহত্যার নৈতিক দায়কে দুর্বল করে।

জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের ভোট আকর্ষণে আরও প্রকাশ্য কৌশল নিয়েছে। সংখ্যালঘু প্রার্থী মনোনয়ন, আওয়ামী লীগ–সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দলে টানা এবং নিরাপত্তার আশ্বাস—এসবের মাধ্যমে তারা ভোটভিত্তি বাড়াতে চাইছে। বিএনপিও কয়েকটি আসনে সাবেক আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ যদি সংগঠিতভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারে, তা হলে সেটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে ভোট পড়লেও অল্প ব্যবধানে ফল নির্ধারিত আসনগুলোতে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটই হয়ে উঠেছে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নীরব প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিরপুরে ভোটার তথ্য সংগ্রহ ইস্যুতে সংঘর্ষ, আহত ১৬ জন

মিরপুরে ভোটার তথ্য সংগ্রহ ইস্যুতে সংঘর্ষ, আহত ১৬ জন