আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সারা দেশে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত দমনে এই ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটগ্রহণ ও ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অবশ্যই যোগদান বা রিপোর্ট করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান নিশ্চিত না করলে তা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন করবেন এবং কোন কোন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করে দেবেন। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক