গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ডেনমার্কের পাশে ইউরোপ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ডেনমার্কের পাশে ইউরোপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 8, 2026 ইং
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ডেনমার্কের পাশে ইউরোপ ছবির ক্যাপশন:
ad728

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের সাতটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড কেবল সেখানকার মানুষের এবং এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।

ইউরোপীয় নেতারা বিবৃতিতে জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, কোনো শক্তিধর রাষ্ট্রের চাপ বা হুমকির মুখে কোনো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে না।

গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি এই অঞ্চলটি দখলে নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তাঁর এই বক্তব্যের পরই ইউরোপে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেবে। তাঁর ভাষায়, মিত্র দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ ন্যাটোর অস্তিত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশটি পরিচালনার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ১৮২৩ সালের তথাকথিত আধিপত্যবাদী নীতিতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পতাকার রঙে গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র প্রকাশ করে অঞ্চলটি দ্রুত দখলের ইঙ্গিত দেন। হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সামনে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

তবে ইউরোপীয় দেশগুলো একমত যে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই শক্তির রাজনীতির হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলের মানুষ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে বিভক্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধিতা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে এই সংকট শুধু আর্কটিক রাজনীতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, ন্যাটোর ঐক্য এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন বেতন স্কেলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ছে কতটা

নতুন বেতন স্কেলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ছে কতটা