চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ হতে পারে: বিশ্বব্যাংক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ হতে পারে: বিশ্বব্যাংক ছবির ক্যাপশন:
ad728

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ধারণা, পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে এবং ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস–এর জানুয়ারি সংস্করণে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।

প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমলে মানুষের ভোগব্যয় বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে বলেও আশা করছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে শিল্প খাত আরও শক্তিশালী হবে। এসব প্রত্যাশার ভিত্তিতেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে সরকারি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও গতি পাবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে ঋণের প্রবাহ কমেছে। এই পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদে ব্যবসা ও শিল্পখাতের সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর খাতগুলোকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মধ্যম পর্যায়ে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভুটানে—৭ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যেখানে প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রবৃদ্ধি অনুমান প্রকাশ করেনি বিশ্বব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই–সেপ্টেম্বর) সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস বাস্তবায়ন করতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাকসুর উদ্যোগে চবিতে ফ্রি লিগ্যাল এইড সেলের যাত্রা

চাকসুর উদ্যোগে চবিতে ফ্রি লিগ্যাল এইড সেলের যাত্রা