আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে আসনটি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আইনজীবী প্রতিনিধির মাধ্যমে গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন। জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আমিরুল ইসলাম বাছেত তার পক্ষে আবেদনটি দাখিল করেন।
রিটার্নিং অফিসার ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, যা ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত আবেদনটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়।
একই আসনে বিএনপির গোলাম নবী আলমগীর ও জোট শরিক বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। দুই প্রার্থীর অনড় অবস্থানের কারণে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের মাধ্যমে সেই জটিলতার অবসান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে ভোলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বিএনপি ও বিজেপির জোট আরও সংহত হবে এবং এতে জোট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বিএনপি প্রার্থী সরে যাওয়ায় দলের একটি অংশ নির্বাচনী মাঠে নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে।
ভোলা-১ আসনে এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি এর আগেও এই আসন থেকে জোটের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ভোলা সদর আসনে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬৭ জন।