উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল তিনটি জাতীয় অগ্রাধিকার বর্তমানে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে—একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন; রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার; এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের শিকার জুলাই শহিদদের প্রতি ন্যায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, দেশের পরিবেশ প্রশাসনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘ ২২ বছর ধরে নিষিদ্ধ থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যাগ বন্ধে কঠোর অভিযান, প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা সম্প্রসারণ, প্রধান নদী ও বনভূমি পুনরুদ্ধার, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নজরদারি। সেন্ট মার্টিনের নাজুক প্রবাল বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, বনসম্পৃক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নব অনুমোদিত বন নীতিতে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর ‘অবাধ, পূর্বানুমতিপ্রাপ্ত ও অবহিত সম্মতি’ (FPIC) নিশ্চিত করার বিধান পরিবেশ প্রশাসনে একটি বড় অগ্রগতি।
ফেনীর সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সীমান্তপারের হঠাৎ পানির প্রবাহসহ জলবায়ুজনিত ঝুঁকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’ গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আনতে হবে—মেগা প্রকল্পের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর না করে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম. আসাদুজ্জামান, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম, বেলা চেয়ারম্যান মির্জা কামরুল হাসান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম।
কসমিক ডেস্ক