উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যর্থতা, বরাদ্দের পুরো টাকাই ফেরত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যর্থতা, বরাদ্দের পুরো টাকাই ফেরত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 14, 2026 ইং
উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যর্থতা, বরাদ্দের পুরো টাকাই ফেরত ছবির ক্যাপশন:
ad728

একটি পূর্ণ অর্থবছর পার হলেও ১১০টি উন্নয়ন প্রকল্পে এক টাকাও ব্যয় হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ ফেরত যাওয়ায় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের এই স্থবিরতা দেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থবছর শেষে শতাধিক প্রকল্পে কোনো আর্থিক অগ্রগতি হয়নি, যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক কার্যক্রম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দাবি করেছে।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এসব প্রকল্পে সময় ও অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা প্রায় শতভাগ। তাঁর মতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে নির্মাণসামগ্রীসহ সবকিছুর দাম বাড়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলিও হয়ে যায়। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়াটাই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন উন্নয়ন কার্যক্রমে শৃঙ্খলার ঘাটতির স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যেমন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি পরিকল্পনা কমিশনও তার তদারকি ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর পরিকল্পনা উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এডিপি অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা হয়, যেখানে সব সচিব উপস্থিত থাকেন। এসব সভায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবছর একই ধরনের চিত্র দেখা যেত না।

আইএমইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, দরপত্র আহ্বানে দেরি, দরপত্র রেসপনসিভ না হওয়া, মামলাজনিত সমস্যা, ডিপিপি সংশোধন ও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব—এসব কারণেই প্রকল্পগুলো শূন্য অগ্রগতিতে রয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শূন্য ব্যয়ের এমন চিত্র নতুন নয়। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০টি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০৭টি প্রকল্পে ১ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৯৪টি প্রকল্পে ১ হাজার ৪ কোটি টাকা—সব ক্ষেত্রেই এক টাকাও ব্যয় হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছরেও ৯০টি প্রকল্পে একই চিত্র দেখা যায়।

চলতি অর্থবছরে শূন্য অগ্রগতির প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলশান–বারিধারা লেক উন্নয়ন, কক্সবাজার–বান্দরবানে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা (ফেজ-১), গুলশানে জাতীয় অতিথিশালা নির্মাণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয়টি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন, চালের স্টিল সাইলো নির্মাণ, বিভিন্ন সড়ক ও সেতু প্রকল্প, বিশ্ববিদ্যালয় ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্থবিরতা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হবে। সময়মতো সিদ্ধান্ত, কঠোর তদারকি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, পলোগ্রাউন্ডে মহাসমাবেশ

দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, পলোগ্রাউন্ডে মহাসমাবেশ