ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অর্থনীতি সচল করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী বাজার সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যমূল্য বাড়ানো, ব্যাংক ঋণ নিয়ে অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে নীতিনির্ধারণ—এসব ছিল সাধারণ ঘটনা।
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ এখন খেলাপি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, বর্তমানে তা বহুগুণ বেড়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, আগে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর প্রবণতা থাকলেও এখন প্রকৃত হিসাব সামনে আসছে, ফলে হার আরও বাড়তে পারে।
মূল্যস্ফীতি ও ঋণের চাপ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, জানুয়ারিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৪ কোটি এবং দেশীয় ঋণ ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা।
রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। মাঠপর্যায়ের অস্থিরতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় আদায়ে প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে। বছর শেষে ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে বাজারে আরও বেশি ব্যবসায়ীকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের মতে, দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে হবে। কারণ, নীতিনির্ধারণই ঠিক করবে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথচলা।নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা, ব্যাংক খাত সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমানো—সব মিলিয়ে অর্থনীতি সচল করাই হবে সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।
কসমিক ডেস্ক