মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর হুমকির মুখেও নতি স্বীকার করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian।
শনিবার বার্তা সংস্থা Reuters এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বশক্তির চাপের সমালোচনা করেন এবং দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে তার দেশ কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। “বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না,”—বলেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি কার্যক্রম বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নৌবহর মোতায়েন ও সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে।
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে একই সময়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। পরে তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন। এই সময়সীমা নির্ধারণকে অনেকেই আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। অতীতে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ—এই প্রেক্ষাপট বর্তমান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তারা নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে। ফলে একদিকে কড়া ভাষার রাজনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা—দুই ধারায় পরিস্থিতি এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের হুমকি ও সময়সীমা নির্ধারণের জবাবে ইরানের কড়া অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
কসমিক ডেস্ক