পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন রাজ্য সফরে এসে কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই জনসভায় তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস–কে নিয়ে কটাক্ষ করেন।
বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের এই সভায় তিনি বলেন, গত কয়েক দশকের তুলনায় এবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতা অনেক কম হয়েছে এবং এটি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে এগোচ্ছে। তার মতে, নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের কারণে এবারের ভোটে তুলনামূলকভাবে কম অশান্তি দেখা যাচ্ছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তবে সভায় রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মোদি হালকা রসিকতার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তিনি কয়েক দিন আগে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি ঘটনা তুলে ধরেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত তৃণমূল কংগ্রেসকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেন। তার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রাম সফরের সময় মোদি স্থানীয় একটি দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কটাক্ষ করেছিল। কৃষ্ণনগরের জনসভায় সেই ঘটনার জবাব হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা লাইনে থাকবেন, তারা ভোট দিতে পারবেন।
এই নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এটি পুনরায় ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এটি ক্ষমতা দখলের সুযোগ।
মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে মমতা ব্যানার্জী ২০১১ সাল থেকে টানা রাজ্য শাসন করছে। গত নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল সংখ্যক আসন পেলেও বিজেপিও উল্লেখযোগ্য আসন পেয়েছিল। পরবর্তীতে কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে আসন বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটে।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে দুই প্রধান দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে, কৃষ্ণনগরের এই জনসভা পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মোদির ঝালমুড়ি মন্তব্য এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক