দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজারে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ৮টি ভ্যানে ৮৩ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা সারের অভাবে এবং অবৈধ বিক্রেতাদের কারণে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরা, কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানা এবং থানার ওসি মাহমুদুন নবী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ছিল, ১০ নং পুনট্রি ইউনিয়নের ডিলারের কাছ থেকে সার পাওয়া যাচ্ছিল না। ডিলার গোপনে সারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছিলেন। এ কারণে কৃষকরা সরাসরি আন্দোলনে নেমে সার বস্তাগুলো আটক করেন।
পরে উপজেলা প্রশাসন সারের বস্তাগুলো জব্দ করেন এবং দুই অবৈধ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ডিলার আব্দুর রহিমের ম্যানেজার ও অবৈধ সার ব্যবসায়ী মাহামুদুলকে ৫০ হাজার টাকা, আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জব্দকৃত সারগুলোতে ছিল ডিএপি ২১ বস্তা, ইউরিয়া ১৯ বস্তা, টিএসপি ৬ বস্তা, পটাশ ২৯ বস্তা এবং জিপ ৮ বস্তা। মোট ৮৩ বস্তা সার। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহিন আলমের হেফাজতে এগুলো রাখা হয়।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারের বস্তাগুলো সরকারি মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ডিলার ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন আশা করছে, এ ধরণের অবৈধ কার্যক্রম ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং কৃষকরা যথাযথ মূল্যে সার পাবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ ধরনের অভিযান তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে সার ক্রয়-বিক্রয় আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে পরিচালিত হবে। প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপের কারণে সার সংকট সাময়িকভাবে শিথিল হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে শান্তি ফেরার সুযোগ হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রমাণিত হলো, স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি অফিস ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সমন্বিত পদক্ষেপ অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও, কৃষক আন্দোলনও প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এই ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
কসমিক ডেস্ক