মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও কিছুটা পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল কিনতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে দেখা যায় গাড়িচালকদের। অনেকেই সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ তেল কিনছেন।
তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং তা নিয়ে তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুত দিয়ে ডিজেল প্রায় ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিন এবং জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিন পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক গ্রাহক ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি কিনছেন। এতে পাম্পের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। তবে এটি প্রকৃত সংকট নয়, বরং আতঙ্কজনিত কেনাকাটা।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো, ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং প্রয়োজনে কার-পুলিং ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও তেল ও এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার বিভিন্ন সরবরাহকারীর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। পেট্রোল পাম্পে বরাদ্দ সীমিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমানো এবং কিছু শিল্পকারখানার গ্যাস ব্যবহার সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান মজুত এবং চলমান আমদানি প্রক্রিয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক