কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলাসহ আশপাশের চারটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়া, তার ছিঁড়ে পড়া এবং ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার কারণে পুরো এলাকায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। টানা প্রায় দুই ঘণ্টা চলা ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
চান্দিনা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় ভেঙে যায় একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি। কোথাও তার ছিঁড়ে পড়ে গেছে, কোথাও ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে, আবার কোথাও ঘরের মিটার পর্যন্ত ছিটকে পড়ে।
চান্দিনাস্থ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় চান্দিনা, দেবীদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ঝড়ের কারণে এই চার উপজেলায় একযোগে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়।
সমিতির অধীনে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পান। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এসব এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঝড়ের পর প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয় গ্রাহকদের। পরে কারিগরি টিমের কাজের মাধ্যমে বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগ আংশিকভাবে সচল করা হয় এবং চান্দিনা বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে অন্যান্য এলাকায় সম্পূর্ণ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় অনেক এলাকায় গাছ ঘরের ওপর পড়ে, ফলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “গত কয়েক বছরে এমন ভয়াবহ ঝড় দেখিনি। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক সব একসাথে বন্ধ হয়ে যায়।”
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাসেদুজ্জামান বলেন, ঝড়ে তাদের বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং দ্রুত বাকি সংযোগও সচল করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার চার উপজেলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক