রাজবাড়ীতে পেট্রোল পাম্পের এক কর্মীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত গাড়িচালক। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১–এর বিচারক মো. মহসিন হাসানের আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযুক্ত চালক কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল মোল্লা।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে কারাগারে রয়েছেন গাড়ির মালিক আবুল হাশেম সুজন। তিনি রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং পেশায় প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার।
নিহত ব্যক্তির নাম রিপন সাহা (৩২)। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘করিম ফিলিং স্টেশন’-এ কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার ভোরে ওই ফিলিং স্টেশনের সামনেই মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোরে একটি জিপ ধরনের গাড়ি নিয়ে ফিলিং স্টেশনে যান আবুল হাশেম সুজন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কামাল হোসেন। সেখানে সুজন পাম্পে দায়িত্বে থাকা রিপন সাহাকে পাঁচ হাজার টাকার অকটেন দিতে বলেন।
তেল নেওয়ার পর টাকা পরিশোধ না করেই সুজন গাড়িতে উঠে চালককে দ্রুত চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় তেলের টাকা নেওয়ার জন্য রিপন সাহা গাড়ির পেছনে দৌড়ে যান। ঠিক তখনই গাড়িটি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন সাহা ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হলেও পরে ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুরো ঘটনার দৃশ্য স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। ফুটেজে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িচাপা দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় নিহত রিপনের ছোট ভাই লিটন সাহা বাদী হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবুল হাশেম সুজন ও চালক কামাল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত সুজনের ব্যবহৃত কালো রঙের টয়োটা ক্লুগার (এসইউভি) গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক