বিএনপি মহাসচিবের বার্তা: ৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিএনপি মহাসচিবের বার্তা: ৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 25, 2026 ইং
বিএনপি মহাসচিবের বার্তা: ৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই ছবির ক্যাপশন:

ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে বিডিআর বিদ্রোহের শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বুধবার সকালে এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। বিগত নির্বাচন এবং বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার সুযোগ পেয়েছি। এখন সময় এসেছে অতীতের বিডিআর বিদ্রোহের মতো জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে লজ্জাজনক এবং কলঙ্কজনক। “পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং তাদের পরিবার ও পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানাই।”

শ্রদ্ধা জানানো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াডন লীডার জাহিদ হোসেন, জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এতে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। পুরো ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪।

স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শ্রদ্ধা জানান। তারা ফুল অর্পণ এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্যালুট দেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি স্বাধীনতার সমতা সুসংহত করা প্রয়োজন। এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে আমরা দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব এবং দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব।”

তিনি উল্লেখ করেন, পিলখানায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র সেনাবাহিনী নয়, পুরো দেশের মনোবলকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ ছিল। “জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আমরা আজ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।”

এবারের স্মৃতিসৌধে উপস্থিত প্রায় সকল রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব ও প্রভাব তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে ইতিহাসের এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের স্মরণ এবং সতর্কতার বার্তা দেয়া হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
থাইরয়েড রোগ: উপসর্গ, কারণ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়

থাইরয়েড রোগ: উপসর্গ, কারণ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়