ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া বনের ভেতরে এসে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা বনাঞ্চলের মধ্যেই আটকে থাকে। দীর্ঘ সময় ট্রেন থেমে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট রুটের ট্রেন চলাচলের শিডিউলে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ স্টেশনের মধ্যবর্তী লাউয়াছড়া নামক এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বনাঞ্চলের ভেতরে ট্রেন থেমে পড়ায় যাত্রীরা নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় পড়েন।
ট্রেনটিতে থাকা যাত্রী কমলগঞ্জের বাসিন্দা সুহেল আহমদ জানান, উপবন এক্সপ্রেসটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে আসে। শ্রীমঙ্গল স্টেশন অতিক্রম করার পর যখন ট্রেনটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন হঠাৎ করেই ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। সে সময় রাত প্রায় সাড়ে ৩টা। গভীর বনাঞ্চলে ট্রেন থেমে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন।
দীর্ঘ সময় ট্রেনের ভেতরে আটকে থেকে যাত্রীদের অনেকেই খাবার, বিশ্রাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় অনেক যাত্রী পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও অসুবিধায় পড়েন।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। শ্রীমঙ্গল স্টেশনে আটকে থাকা উদয়ন এক্সপ্রেসের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিকল্প ওই ইঞ্জিনের সাহায্যে উপবন এক্সপ্রেসকে ধাক্কা দিয়ে উঁচু স্থানে বালু ব্যবহারের মাধ্যমে বন এলাকা পার করে নেওয়া হয়। পরে ট্রেনটি ধীরে ধীরে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
এই ঘটনায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুহেল আহমদ বলেন, ‘সিলেট রুটে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। এক মাসের মধ্যেই চারবার এই রুটে ট্রেন বিকলের খবর পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
এ বিষয়ে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এস এম গৌর প্রসাদ জানান, রাতে ‘আপ’ লাইনের সমস্যার কারণে ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকে পড়ে। পরবর্তীতে দ্রুত বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয় বলে তিনি জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট রুটে বারবার ট্রেন বিকলের ঘটনায় রেল ব্যবস্থাপনার মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যাত্রীদের দাবি, নিয়মিত ইঞ্জিন পরীক্ষা ও সময়মতো কারিগরি ত্রুটি সমাধান করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি আরও বাড়বে। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।