বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা বাড়লে খামেনির বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা বাড়লে খামেনির বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 8, 2026 ইং
বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা বাড়লে খামেনির বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ঘিরে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি বলেছেন, ইরানে চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিক্ষোভ দমনে যদি চরম দমন-পীড়ন চালানো হয়, তবে প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধেও চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, নিজের দেশের জনগণ উন্নত জীবন ও অধিকার দাবি করলে তাদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করা হলে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না। তার ভাষায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বও এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, ইরানকে ঘিরে আরও উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছেন খ্যাতনামা মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাকস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান। ইন্ডিয়া টুডে গ্লোবালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন।

জেফ্রি স্যাকস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কর্মকাণ্ডকে ‘রুলস-বেইজড অর্ডার’ বলে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। তার মতে, দেশটি বর্তমানে একটি ‘রোগ স্টেট’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় আট বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার নেতাদের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন—কেন সরাসরি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানো হবে না। স্যাকসের মতে, এতে বোঝা যায় যে আগ্রাসী সামরিক পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই আলোচনায় ছিল।

ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান হলে তা ভেনেজুয়েলার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। ইরান আধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী এবং এমন এক ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি স্বার্থ জড়িত। ফলে সেখানে যুদ্ধ শুরু হলে তা সহজেই বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

স্যাকস আরও দাবি করেন, নতুন বছরের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই ‘ইরান হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য’—এমন বার্তা পাওয়া গেছে বলে তার মন্তব্য।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অর্থনৈতিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের স্পষ্টভাবে আলাদা করার নির্দেশ দেন। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সরকারের এই অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ও ইরান ঘিরে বাড়তে থাকা সামরিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনী প্রচার জোরদারে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের মাঠে সক্রিয়

নির্বাচনী প্রচার জোরদারে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের মাঠে সক্রিয়