গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক ডেনমার্ক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক ডেনমার্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক ডেনমার্ক ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক।

ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সামরিক হামলা চালায় বা তাদের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে তা ন্যাটোর অস্তিত্বের শেষ অধ্যায় হয়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী প্রায় ৮০ বছরের বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে।

সোমবার ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি টু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে আর ‘মজা’ বা ‘ঠাট্টা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক কমান্ডো অভিযানের পর এই আশঙ্কা বাস্তব রূপ নিয়েছে।

এর আগে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে রহস্যজনকভাবে বলেন, “২০ দিন পর আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কথা বলব।” এই সময়সীমা নির্ধারণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা কেটি মিলারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পতাকার রঙে রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করার ঘটনায় উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড এলাকায় রুশ ও চীনা জাহাজের উপস্থিতি বাড়ছে এবং ডেনমার্ক এককভাবে দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলছেন। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এই দাবি ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার যৌথভাবে ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে, ন্যাটোর অংশীদার হিসেবে গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রয়যোগ্য নয়। আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল খনিজ সম্পদ, সামরিক কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক রুটের কারণে গ্রিনল্যান্ড দখলের যে কোনো চেষ্টা ইউরোপের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে ভেঙে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ‘অ্যানেক্সেশন’ বা সংযুক্তিকরণের ধারণা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইউরোপ নয়, বরং গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক কাঠামোয় নজিরবিহীন অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। ন্যাটোর অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান জোটের ঐক্য ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পুলিশ সদস্যকে ছুরি দেখিয়ে ২ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

পুলিশ সদস্যকে ছুরি দেখিয়ে ২ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪