জিপিএস বা ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার না করেই পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিমানবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানি পাইলটরা প্রচলিত স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ছাড়াই এসব অভিযান পরিচালনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার ইরানের বিমানবাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জাফারি দাবি করেন, গত ২ মার্চ কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং একই দিনে কুয়েতের যুক্তরাষ্ট্র-পরিচালিত আল-আদিরি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানের সময় ইরানি পাইলটরা জিপিএস ব্যবহার করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
জাফারির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ করার ফলে ইরানের পাইলটরা মানচিত্র ও মৌলিক নেভিগেশন কৌশলের ওপর নির্ভর করে উড্ডয়ন ও অভিযান পরিচালনায় দক্ষ হয়ে উঠেছেন। অভিযানের সময় তারা রেডিও বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক সংকেতও ব্যবহার করেননি বলে দাবি করা হয়।
ইরানি এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, কুয়েতে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল। ওই পরিস্থিতিতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর কারণে কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
জাফারি জানান, শিরাজের শহীদ দৌরান বিমানঘাঁটি থেকে চারজন পাইলট সু-২৪ যুদ্ধবিমান নিয়ে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে অভিযানে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ সম্প্রতি ইরানে ফিরেছে। বাকি তিন পাইলটের ভাগ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ইরানি কর্মকর্তার এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক