ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নে চলমান খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। তিনি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন কার্যক্রম এবং গুণগত মানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে তালমা ইউনিয়নের তালমা স্লুইসগেট থেকে সন্তোষী পর্যন্ত প্রায় পৌনে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। খননকাজের মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এটি এলাকার কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা কমে আসবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কৃষিনির্ভর এলাকার উন্নয়নে খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে খাল পুনঃখনন করা হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননসহ উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তালমা স্লুইসগেট থেকে সন্তোষী পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় কৃষিকাজে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতো। পুনঃখনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কৃষি, মৎস্য এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালটি পুনরুদ্ধার হলে এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল দীর্ঘদিন ভোগ করতে পারবেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবীর উদ্দিন, তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে তিনি মানিকদী আনেছিয়া দরবার শরীফ পরিদর্শন ও মাজার জিয়ারত করেন।
কসমিক ডেস্ক