কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার হারং দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। মুখোশধারী অস্ত্রধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ২টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হারং দক্ষিণপাড়া এলাকায় প্রবাসী পিয়াস ও কামরুল হাসানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। একই রাতে চান্দিনা-রামমোহন সড়কের হারং উদালিয়া এলাকায় গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গৃহকর্তা ছফিউল্লাহ জানান, তার দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। ঘটনার সময় বাড়িতে তিনি, তার স্ত্রী, পুত্রবধূসহ পরিবারের চার সদস্য অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে দরজার শব্দে ঘুম ভাঙার পর তারা দেখতে পান, মুখোশ পরা ৬ থেকে ৭ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পরে স্টিলের আলমারি ও ওয়ার্ডরোব ভেঙে প্রায় ১ লাখ টাকা, প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ডাকাত দল রাত প্রায় ৩টার দিকে চলে যাওয়ার পর তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। তবে তার অভিযোগ, থানা থেকে বাড়ির দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সময় নেয়।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, তার কাছে থানা থেকে ফোন আসে ভোর সোয়া ৪টার দিকে। খবর পাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুজ্জামান বলেন, ডাকাতির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান আছে। তবে একই রাতে চান্দিনা-রামমোহন সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাতের বেলায় অপরাধের ঝুঁকি বেড়েছে। তারা এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক