মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত ১৫ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত ১৫

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 30, 2026 ইং
মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত ১৫ ছবির ক্যাপশন: মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে রায়হান (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহত রায়হান উত্তরপাড়া এলাকার ছুটুন মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এলাকায় একটি ছোট ঘটনা থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সজীব মিয়া নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় এক যুবককে ৩০০ টাকা দিয়ে ইয়াবা কিনে আনার জন্য পাঠান। তবে ওই যুবক ইয়াবা না এনে সেই টাকা দিয়ে বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সজীব মিয়া ক্ষুব্ধ হন এবং পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী অবস্থানে থাকা কয়েকজন যুবক, যাদের মধ্যে কামাল, জসিম ও দেওয়ান উদ্দিনসহ কয়েকজন ছিলেন, ঘটনাটির ব্যাখ্যা জানতে চান এবং মাদক কেনাবেচার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে সজীব মিয়ার পক্ষের শাহীন ও রতন মিয়া নামে দুই যুবক ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা দ্রুতই উত্তেজনায় রূপ নেয়।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নারী-শিশুসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে ঘরে অবস্থান করেন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে কিশোর রায়হান গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা যায়। এছাড়া আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই তারা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংক্রান্ত ছোটখাটো বিরোধ চলছিল। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এসব ঘটনা এক সময় বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত কিশোরের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মাদক বিস্তার ও এর সঙ্গে জড়িত সংঘর্ষ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামাজিক সচেতনতা—সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। না হলে এ ধরনের সহিংস ঘটনা আরও বাড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নিয়োগ বাতিলের পর উপাচার্যের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সাবেক রেজিস্

নিয়োগ বাতিলের পর উপাচার্যের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সাবেক রেজিস্