সাংবিধানিক সংশোধনী পাস, চাপের মুখে হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়ক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সাংবিধানিক সংশোধনী পাস, চাপের মুখে হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 14, 2026 ইং
সাংবিধানিক সংশোধনী পাস, চাপের মুখে হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়ক ছবির ক্যাপশন:

হাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দেশটির সংসদ ১৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করেছে। এই সংশোধনীর ফলে প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়ক এবং সাংবিধানিক আদালতের প্রধান পেতের পোল্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকার সংসদে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে এই সংশোধনী পাস করে।

প্রেসিডেন্টের সামনে দুটি বিকল্প

নতুন আইনের পর প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়কের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি চাইলে পাঁচ দিনের মধ্যে সংশোধনীতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতের মতামতের জন্য পাঠাতে পারেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যদি বিষয়টি আদালতে পাঠান, তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সে ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন। সরকার ইতোমধ্যে তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার আহ্বানও জানিয়েছে।

ফিদেজের ওয়াকআউট ও বিরোধিতা

সোমবার সংসদে ভোটাভুটির আগে বিরোধী দল ফিদেজ-এর সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। তাদের অভিযোগ, এই সাংবিধানিক সংশোধনী সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করবে এবং ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অন্যদিকে সাবেক বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেতের রোনা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত ফিদেজই দায়ী। তার মতে, ২০১১ সালের সংবিধানের মাধ্যমে অরবানের সরকার বিজয়ী দলের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল এবং ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছিল।

সংশোধনীতে আরও যেসব পরিবর্তন

নতুন সাংবিধানিক সংশোধনীতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ৭০ বছরের বেশি বয়সী সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের অবসরে যেতে হবে।
  • টানা তিন মেয়াদ সংসদ সদস্য থাকা ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এই নতুন নিয়ম বর্তমান ফিদেজ দলের অর্ধেকেরও বেশি সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

হাঙ্গেরির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আন্দ্রেস বাকা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফিদেজের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমানোর উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তার দাবি, অরবান সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল।

তবে তিনি টানা তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনকারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, এমন বিধান ভোটারদের স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ সীমিত করতে পারে।

অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা

সরকার জানিয়েছে, ১৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, যা নতুন সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই থেকে তিন বছর কার্যকর থাকবে।

এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফিদেজ দলের অভ্যন্তরেও অস্থিরতা বেড়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান জনসমক্ষে খুব কম দেখা দিচ্ছেন এবং সংসদে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা গেরগেলি গুলিয়াস সংসদীয় গোষ্ঠীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করায় ফিদেজের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হেলাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নাচোলে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পি

হেলাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নাচোলে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পি